Logo
| বঙ্গাব্দ

প্রকৃতির মুগ্ধতা ছড়ানো তৈদুছড়া ঝর্ণা

  • আপডেট টাইম : 20-09-2025 ইং
  • 318555 বার পঠিত
প্রকৃতির মুগ্ধতা ছড়ানো তৈদুছড়া ঝর্ণা
রিপোর্টারঃ N/A

জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার

পাহাড়ের উপর থেকে ঝরে পড়া পানির কলকল সুর আর নয়নাভিরাম দৃশ্য যেন মুগ্ধতা ছড়ায় দীঘিনালার তৈদুছড়া ঝর্ণায়। প্রকৃতির বুকে আঁকা ক্যানভাসের মতো এই অপরূপ ঝর্ণাধারা যে কাউকে সৌন্দর্যের নেশায় হারিয়ে যেতে বাধ্য করে।

জানা যায়, তৈদুছড়া শব্দটি ত্রিপুরা বা চাকমা ভাষা, যার আঞ্চলিক অর্থ হলো— “তৈ” মানে পানি আর “ছড়া” মানে ছোট নদী বা ঝিরি। অর্থাৎ তৈদুছড়া মানে হলো পানি প্রবাহিত হওয়া একটি ঝিরি বা ঝর্ণাধারা। নামের মতোই এ ঝর্ণা প্রকৃতির অনন্য সৃষ্টির এক অনবদ্য নিদর্শন।

অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা ঝর্ণাটি পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের দুর্গম সীমানাপাড়ায় অবস্থিত। দীঘিনালা থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে মেইন সড়ক থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে এবং দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।


গাড়ি বা মোটরসাইকেলে সীমানাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার যাওয়া গেলেও বাকি পথ হেঁটেই যেতে হয়। পথে চোখে পড়ে উঁচু-নিচু ও খাড়া পাহাড়, সবুজে ঘেরা ঝুম চাষের ক্ষেত, ছোট ছোট ঝুম ঘর আর সোনালি ধানের অপরূপ দৃশ্য। মনে হয় যেন পাহাড়ের ক্যানভাসে প্রকৃতি নিজ হাতে ছবি এঁকে রেখেছে।

ঝর্ণায় পৌঁছাতে যেমন খাড়া পাহাড় ও পিচ্ছিল পাথুরে ঝিরিপথ ভ্রমণ পিপাসুদের মাঝে ভয়ের সঞ্চার করে, তেমনি সেই পথের অ্যাডভেঞ্চার দ্বিগুণ আনন্দ যোগ করে। অবশেষে তৈদুছড়া ঝর্ণায় পৌছানোর পর বিশাল বড় বড় পাথর, পানির টলমল শব্দ আর শীতল স্পর্শ সকল ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।

ঝর্ণাটি দেখে মনে হয় যেনো পাহাড় ঘেষে পানি পড়ার জন্য কোনো শিল্পী তার নিপুণ হাতে সিঁড়ি তৈরি করে দিয়েছে। প্রায় ৬০ ফুট উচু থেকে গড়িয়ে পড়া পানি সিঁড়ি বেয়ে ঝিরিতে পড়ছে। ঝর্ণার সিঁড়িততে উঠে গা ভিজিয়ে আর পাথরগুলোকে আলিঙ্গণ করে ক্লান্ত শরীরের ক্ষুধা মেটাচ্ছে দর্শনার্থীরা।


ঝর্ণায় ঘুরতে এসে দীঘিনালা প্রেসক্লাবের সদস্য হাসান মোর্শেদ রিফাত বলেন, "এত সুন্দর আর অপরূপ ঝর্ণাাটি দেখে আমি অভিভূত। সিড়ি দিয়ে পানি ঘরিয়ে পড়া ঝর্ণার পানিতে ঘা ভিজিয়ে দীর্ঘ পথ হেটে আসার সমস্ত কষ্ট নিমিষেই দূর হয়ে গিয়েছে।''

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ ইনামুল হাছান বলেন, "দীঘিনালায় ছোট বড় অনেক ঝর্ণা রয়েছে। প্রকৃতির মাঝে এমন অপরূপ সৌন্দর্যের ঝর্ণা দেখে আমি মুগ্ধ। এখানে পানি ঘড়িয়ে পড়ার দৃশ্য এবং বড় বড় পাথরগুলো অন্যান্য ঝর্ণা থেকে এই ঝর্ণাটিকে সৌন্দর্যের আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। পর্যটন বান্ধব করা গেলে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।"

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়