Logo
| বঙ্গাব্দ

অনাবাদি পাহাড়ি জমিতে অসময়ের তরমুজ!

  • আপডেট টাইম : 16-02-2025 ইং
  • 434185 বার পঠিত
অনাবাদি পাহাড়ি জমিতে অসময়ের তরমুজ!
রিপোর্টারঃ N/A

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

শীতের মাঝামাঝি সময় থেকে পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড় ও হ্রদের তীরবর্তী এলাকায় চাষ হওয়া তরমুজ বাজারজাতের পাশাপাশি যাচ্ছে ঢাকাসহ সারাদেশে।


সরজমিনে গিয়ে দেখা মিলে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলার কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী বগাচতর ইউনিয়নের মুসলিমব্লক এলাকায় হচ্ছে অসময়ের এই তরমুজ চাষ। এখান থেকে উপজেলা, জেলা ও বিভিন্ন পাহাড়ি বাজারের রাস্তার দুই পাশে তরমুজের পশরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বেশির ভাগই ছোট ও মাঝারি আকারের। অথচ দাম নেওয়া হচ্ছে ২শ থেকে ৬শ টাকা।


দূর্গম এ অঞ্চলে তিন চার বছর পূর্বে উপজেলায় বছরের পর বছর অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকা জমিগুলোতে তরমুর চাষ করে সফলতা পেয়েছে পাহাড়ের স্থানীয় কৃষকরা। এক সময় লংগদু উপজেলার অনাবাদি এসব জমিতে কোনো শীতকালীন তরমুজ চাষ করা হতো না। চলতি মৌসুমে পাহাড়ের পাদদেশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে।


পাহাড়ি জনপদে আবহাওয়া ও পরিবেশ তরমুজ চাষের বেশ উপযোগী এবং কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে শীতকালীন এই ফল চাষে।


আকারে বড় এবং সুস্বাদু হওয়ায় বাজারেও রয়েছে এসব তরমুজের বেশ চাহিদা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে সরাসরি ক্ষেত থেকে এসব তরমুজ কিনে নিয়ে যায়।


কৃষকেরা জানান, দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় পার্বত্য জেলার অনেক কৃষক আগেভাগেই তরমুজ চাষ শুরু করেন। আগাম তরমুজ চাষে চাষিরা লাভবান হন। আকার কিছুটা ছোট-বড় হলেও পাহাড়ি আগাম তরমুজ স্বাদে মিষ্টি।


উপজেলার বগাচতরের তরমুজচাষি মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ বলেন, প্রতি কানি জমিতে ২ হাজারের মতো তরমুজের থালি করা যায়। প্রতি কানিতে সার, বীজ ও শ্রমিক বাবদ খরচ পড়ে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা। আগাম চাষাবাদ করা তরমুজ শুরুতে আকারে কিছুটা ছোট হয়। এরপর বড় তরমুজ পাওয়া যায়। এ বছর তরমুজ চাষে লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে বলে আশা করেন তিনি।


কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, গত মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা ২০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষাবাদ করেছিলেন। এবার মৌসুমের শুরুতে উপজেলার পাহাড়ি ঢালু ও উঁচু বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে আগাম তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। এছাড়া চলতি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের দেয়া হয়েছে প্রদর্শনী। পাশাপাশি কৃষকের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে বীজ, সার ও বালাইনাশক।


উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, পাহাড়ে উৎপাদিত গাঢ় লাল রং ও মিষ্টি স্বাদের তরমুজের বিশেষ কদর রয়েছে ক্রেতাদের কাছে। সাধারণত নভেম্বর মাসে তরমুজ চাষ শুরু হয়। তবে এর কয়েক মাস আগে লংগদুর অনেক কৃষক তরমুজ চাষাবাদ শুরু করেন।


এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রতন চৌধুরী বলেন, সাধারণত আগাম জাতের তরমুজ ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে হাটবাজারে আসে। এবার জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে বাজারে চলে এসেছে। আগাম চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকেরা সেদিকে ঝুঁকছেন। আমরাও কৃষকদের পরামর্শ ও প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়