সাকিব এ মামুন
সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে আবারও পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার মাইনী নদী, কাঁচালং নদী, চেঙ্গী নদীর অববাহিকা এবং কাপ্তাই হ্রদ সহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিতে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার আটারকছড়া, কালাপাকুজ্জ্যা, গুলশাখালী, বগাচতর, ভাসান্যাদম, মাইনীমূখ সহ লংগদু সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি সহ গবাদি পশু।
শুক্রবার কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। সকাল থেকে প্রায় বন্ধ রয়েছে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল। নৌকা দিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তাদের। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও পানিতে ডুবে যাওয়ায় চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে জনসাধারণের।
মাইনী নদী ও কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় গত এক রাতেই প্রায় ২-৩ ফুট পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চল দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হয়েছে। গত জুলাইয়ে শেষ সপ্তাহে পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টিপাতে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পানিবন্দি হয়েছিল ৩ শতাধিক পরিবার। পরে পানি কমে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও এখন আবারও বন্যার কবলে পড়ে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ।
কালাপাকুজ্জ্যা ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকার সালমান জানান, পানি বাড়লেই বাড়িতে পানি ঢুকে যায়। ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। বাচ্চা ও গবাদি পশু নিয়ে পড়েছি বিপাকে। কিছুদিন আগে বন্যায় আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে থাকতে হয়েছে। এক মাসেই দুই বার পানি উঠেছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি।
জারুল বাগান এলাকার আব্দুল মান্নান বলেন, পানি কমায় মন ভালো হয়েছিল। কিন্তু গত দুই-তিন দিন ধরে প্রচুর পরিমাণে পানি বাড়ছে। পানি বাড়লে আমরা বড় বেশি সমস্যায় পড়ে যাই। আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হয় অনেকের।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, সীমান্তে বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার নদ-নদীর পানি বেড়েছে। অবিরত বৃষ্টির ফলে লংগদুর নিম্নাঞ্চলে আবারও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে এবিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে এবং ত্রাণ সহায়তা চলমান থাকবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট ১ ফুট করে খোলা থাকলেও বন্যার্তদের দাবি ৩ ফুটেরও অধিক খুলে দেওয়া হোক। তাহলে পানি দ্রুত সরে যাবে এবং মানুষের ভোগান্তি লাঘব হবে।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |