Logo
| বঙ্গাব্দ

৯০ তম জন্মবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় থাকুক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ

  • আপডেট টাইম : 26-02-2026 ইং
  • 164739 বার পঠিত
৯০ তম জন্মবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় থাকুক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ
রিপোর্টারঃ নিজস্ব প্রতিনিধি
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের পবিত্র স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। তাঁর মহান আত্মা শান্তিতে থাকুক সেই কামনা করছি মহান রবের কাছে।


বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে যেসব বীরসন্তান নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে লাল-সবুজের পতাকা ছিনিয়ে এনেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ। অসীম সাহস, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি শহীদ হন। বিনিময়ে অর্জন করেন দেশের সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি। তাঁর আত্মত্যাগ আজও নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। 


বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 


বীরশ্রেষ্ঠ শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন সাহসী ও দায়িত্ববান। সাধারণ গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠলেও তাঁর হৃদয়ে ছিল দেশের প্রতি অগাধ আস্হা! নিজের প্রতি ছিল দেশ প্রেমের গভীর ভালোবাসা। 


কৈশোর পেরিয়ে তিনি যোগ দেন তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এ, যা বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নামে পরিচিত লাভ করে আছে। 


শৃঙ্খলা, সততা ও কর্তব্যপরায়ণতার জন্য সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধের মানুষ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে বাঙালির ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে সারা দেশ জেগে ওঠে তখন স্বাধীনতার দাবিতে। 


মুক্তির সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে নূর মোহাম্মদ শেখ ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। তিনি যশোর অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। সীমান্ত এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং শত্রুর অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন সাহসিকতার সঙ্গে।



১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ এক অভিযানে অংশ নেন। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় তাঁর দল শত্রুর মুখোমুখি হয়। সংখ্যায় ও অস্ত্রে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও তিনি সহযোদ্ধাদের নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালান। একপর্যায়ে শত্রুর গুলিতে তাঁর সহযোদ্ধারা আহত হলে তিনি নিজেকে ঢাল হিসেবে সামনে দাঁড় করান। প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যেও তিনি সহযোদ্ধাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।


শত্রুর গুলিতে গুরুতর আহত হলেও নূর মোহাম্মদ শেখ যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করেন নি। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। তাঁর আত্মত্যাগের ফলে তাঁর সহযোদ্ধারা পুনর্গঠিত হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হন। 


যুদ্ধক্ষেত্রে এই অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর তাঁকে প্রদান করা হয় ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি।



‘বীরশ্রেষ্ঠ’ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক সম্মাননা, যা মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা প্রদর্শনকারী সাতজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে প্রদান করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ শেখের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ তিনি নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে সহযোদ্ধাদের রক্ষা করেছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগ ছিল নিঃস্বার্থ, নির্মোহ এবং পরম দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ।


স্বাধীনতার পর তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। নড়াইলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কের নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে। 


এদিকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাঁর বীরত্বগাথা, যাতে নতুন প্রজন্ম তাঁর জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে। জাতীয় দিবসগুলোতে তাঁর কবরে ও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।


বীরশ্রেষ্ঠনূর মোহাম্মদ শেখের জীবন আমাদের শেখায় দেশপ্রেম কেবল মুখের বুলি নয়। এটি আত্মত্যাগ, সাহস ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়। তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন সত্যিকারের সৈনিকের কাছে ব্যক্তিগত জীবন নয়, দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ। তাঁর এই আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক হয়ে আছে, যখন দেশ গঠনে সততা, নিষ্ঠা ও সাহসের প্রয়োজন অপরিসীম।


বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুগে বেড়ে উঠছে। কিন্তু ইতিহাসের শেকড় ভুলে গেলে জাতি এগোতে পারে না। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের মতো বীরদের আত্মত্যাগ স্মরণ করলে আমরা উপলব্ধি করি। স্বাধীনতা অর্জন সহজ ছিল না। এর পেছনে রয়েছে অগণিত ত্যাগ ও রক্তের ইতিহাস। তাই স্বাধীনতার মূল্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।


আজ তাঁর শাহাদাত দিবসে কিংবা জাতীয় স্মরণ দিবসে আমরা যখন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, তখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাঁর আদর্শ ধারণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা এটাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।


বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। তাঁর সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম চিরদিন আলোকবর্তিকা হয়ে পথ দেখাবে। লাল-সবুজের পতাকা যতদিন উড়বে, ততদিন তাঁর নাম উচ্চারিত হবে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায়।


চলুন আমরা সবাই তাঁর পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই এবং প্রতিজ্ঞা করি স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখবো, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। তাঁর মহান আত্মা শান্তিতে থাকুক।


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়