Logo
| বঙ্গাব্দ

লক্ষীছড়ি- মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি-সিন্দুকছড়ি সড়ক ১৮ ফুট প্রশস্ত করার জোর দাবি

  • আপডেট টাইম : 18-03-2026 ইং
  • 8829 বার পঠিত
লক্ষীছড়ি- মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি-সিন্দুকছড়ি সড়ক ১৮ ফুট প্রশস্ত করার জোর দাবি
রিপোর্টারঃ রমজান আলী জিসান, লক্ষীছড়ি প্রতিনিধিঃ



খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি-মানিকছড়ি ও লক্ষীছড়ি–সিন্দুকছড়ি সড়ক ১৮ ফুট প্রশস্ত করার দাবি তুলেছেন লক্ষীছড়ি উপজেলার বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে চলাচলে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা। সড়কটি প্রশস্ত করা হলে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বদলে যেতে পারে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী।




জানা গেছে, মানিকছড়ি থেকে লক্ষীছড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার এবং লক্ষীছড়ি থেকে সিন্দুকছড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার সড়ক বর্তমানে মাত্র ১২ ফুট প্রশস্ত। প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সরু হওয়ায় এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সংকীর্ণতার কারণে লক্ষীছড়ি থেকে খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকাগামী বড় যানবাহন চলাচল করতে পারে না। বিশেষ করে ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে অন্তত ১১৫'টি বাঁক রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০'টিরও বেশি বাঁক মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে উপজেলার অধিকাংশ মানুষ মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশাকেই প্রধান যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।




লক্ষীছড়ি উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে আম্প্রলী আম, কাঠাল, কলা, হলুদ, আদা এবং পাহাড়ি ঝাঁড়ুর ফুল ও বিভিন্ন ফলমূল উৎপাদিত হয়। কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এসব কৃষিপণ্য সীমিত পরিসরে বিক্রি করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, সড়ক যোগাযোগের দুর্বলতার কারণে উপজেলার উন্নয়ন অনেকটাই থমকে রয়েছে এবং মানুষের জীবন-জীবিকার মানও প্রত্যাশিতভাবে উন্নত হচ্ছে না।




এলাকাবাসীরা মনে করেন, মানিকছড়ি–লক্ষীছড়ি–সিন্দুকছড়ি সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সড়কটি উন্নত করা হলে লক্ষীছড়ি–বর্মাছড়ি–কাউখালী হয়ে রাঙ্গামাটির সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। তখন রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা চট্টগ্রাম হয়ে না গিয়ে লক্ষীছড়ি হয়ে জালিয়াপাড়া–রামগড় পথ ব্যবহার করে সহজেই রাজধানীতে পৌঁছাতে পারবেন বলে স্থানীয়রা আশা করছেন।




এ বিষয়ে লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা বলেন, মানিকছড়ি–লক্ষীছড়ি সড়কটি সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। সড়কটি খুবই সরু হওয়ায় বড় যানবাহন চলাচল করতে পারে না। তাই দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করতে সাংসদ সদস্য ওয়াঁদুদ ভূইয়া ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।




লক্ষীছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফোরকান হাওলাদার বলেন, লক্ষীছড়ি বাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন অনেক যানবাহন চলাচল করে, তবে সেগুলো মূলত ছোট জিপ ও সিএনজি। সড়কটি প্রশস্ত করা হলে বড় যানবাহন চলাচল করতে পারবে এবং দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা এসে এখানকার পণ্য কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতে পারবে।




লক্ষীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, এ উপজেলার প্রধান সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটলে লক্ষীছড়ি দ্রুত এগিয়ে যাবে এবং মানুষের জীবনমানও উন্নত হবে।

 

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করতে মানিকছড়ি–লক্ষীছড়ি–সিন্দুকছড়ি সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত করার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়