Logo
| বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে বারবার ভাঙছে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়ক

  • আপডেট টাইম : 03-05-2026 ইং
  • 5381 বার পঠিত
টানা বৃষ্টিতে বারবার ভাঙছে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়ক
রিপোর্টারঃ N/A
আরিফুল ইসলাম

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির দীঘিনালা প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে পাহাড়ি এই জনপদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যমটি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করলেও সড়কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একাধিক স্থানে আংশিক ধস নেমে গেছে। কোথাও সড়কের অর্ধেক অংশ বিলীন হয়ে খাদে পরিণত হয়েছে, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে যান চলাচলের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢাল ঘেঁষা অংশগুলোতে ভাঙনের মাত্রা বেশি, যেখানে সামান্য অসাবধানতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এছাড়াও পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোত, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দুর্বল নির্মাণ কাঠামোর কারণে প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে এই সড়কের একই অবস্থা তৈরি হয়। বর্ষা এলেই ভাঙন, আর বর্ষা শেষ হলেই সাময়িক সংস্কার এ যেন বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এক চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগ যে সংস্কার কাজ করে, তা কেবল দায়সারা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাঙা অংশে সামান্য মাটি বা ইট ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়, যা পরে অল্প বৃষ্টিতেই আবার ধসে পড়ে। ফলে সমস্যার মূল কারণ থেকে যায় অমীমাংসিত।

মোটরসাইকেল চালক মো. শামীম বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই সড়কে গাড়ি চালানো মানেই জীবনের ঝুকি নিয়ে পথচলা। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে পাথর, কংক্রিট রাস্তায় বিলিয়ে থাকে, যা আমাদের জন্য অতি বিপজ্জনক।

দূরপাল্লা থেকে আসা ট্রাক চালক শাহ-আলম বলেন, আমি প্রায় সময়ই বাঘাইছড়ি আসি কাঠ নিতে। আমি দেখি প্রতিবারই নামমাত্র মেরামত করা হয়, যা মূল সমস্যার সমাধান না করে কেবল সাময়িক স্বস্তি দেয়। এটা যেন ক্ষত স্থানে মলম লাগানোর মতো।

পাহাড়ি এলাকায় সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি যেমন, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের সমস্যা বারবার ফিরে আসবে।




এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা জানান, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে মেরামতের কাজ করা হবে, যাতে ভাঙন সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

তিনি আরও বলেন, বাঘাইছড়ি সড়কের উন্নয়ন কাজ শিগগিরই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সড়কের প্রস্থ বর্তমান ১২ ফুট থেকে বৃদ্ধি করে ১৮ ফুটে উন্নীত করা হবে, যা যান চলাচলকে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে।

সড়কটির উন্নয়ন প্রকল্পে আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। আগামী মাসে প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একনেকের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তীতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধাপে ধাপে কাজ শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে কাজ শুরু হতে পারে বলেও তিনি জানান।

এদিকে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কটি শুধু স্থানীয়দের জন্য নয়, পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের এই নাজুক পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নকে ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সড়কটির স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যা পুনরাবৃত্তি হয়ে জনদুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়