সাকিব এ মামুন
সমাজে অসামান্য সাহসীকতা ও নারী নেতৃত্বে অবদান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে নারীদের টেকসই ভবিষ্যত গড়ায় অবদান রাখায় এবং সম্প্রদায়ে স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবর্তন সাধন করায় দূর্গম পাহাড়ের নারী চম্পাকে নির্ভয়া পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নির্ভয়ার পঞ্চম সংস্করণে দ্য ডেইলি স্টার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের উদ্যোগে সকাল ১১টায় রাজধানীর আইডিবি ভবনের ৩য় তলায় ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম ও ইউএনডিপির প্রতিনিধি স্টিফেন লীলার এ পুরস্কার প্রদান করেন।
এবার এ পুরস্কার পেয়েছেন পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ইউএনডিপির লোকাল ভোলান্টিয়ার ফোরাম'র সহ সম্পাদক পাহাড়ি নারী চম্পা চাকমা। অনুষ্ঠানে তার হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, নেতৃত্বের দক্ষতার জন্য প্রয়োজন সাহস, সততা, বিবেক এবং অন্যদের সেবা করার প্রয়াস। পার্বত্যাঞ্চলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকায় কাজ করে নারীদের অগ্রসর করে কাজ করা খুবই কষ্টসাধ্য। তবুও আমাদের প্রচেষ্টা নারীদের সামনের সারিতে আনা।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লীলার বলেন, যেকোনো লালন পালনের ব্যাপারে… সেটা পরিবেশ হোক, প্রকৃতি হোক কিংবা মানুষের লালন পালনের ব্যাপারে প্রাকৃতিকভাবেই নারীরা ভালো করে। এছাড়া নারী নেতৃত্ব ব্যতীতও দেশের উন্নয়নে কাজ করা অসম্ভব। নারীদের সাহসিকতা, উদ্ভাবন ও স্থিতিশীলতা সমাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। পাহাড় কিংবা সমতলে নারীদের নেতৃত্ব হোক সমানতালে।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটির লংগদু থেকে প্রথমবারের মতো নির্ভয়া পুরস্কারে ভূষিত হওয়া চম্পা চাকমার কাছে তার প্রতিবাদী ও নেতৃত্বের গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার গল্পটা সহজ নয়, অনেকটা ভিন্ন। মধ্যবিত্ত পরিবারের পাহাড়ি মেয়ে হয়ে ১৯৯৯ সালে এসএসসি ও ২০০১ সালে এইচএসসি পাশ করার পর আর্থিক অনটনসহ নানান প্রতিবন্ধকতায় পড়াশনা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে কর্মজীবনে শুরুতে ২০০৬-৭ সালে সর্ব প্রথম জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পে রেজিষ্টার্ট হিসেবে কাজের সুযোগ হয়। কিন্তু ২০০৭ সালে মা মারা যাওয়ার পরে জীবনের কঠিন বাস্তবতা শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০০৮ সালে ভোটার আইডি প্রনয়ণ প্রকল্প অপারেশন নবযাত্রায় কাজ করার সুযোগ পাওয়ার পর ২০১০ সালে ইউএনডিপির কমিউনিটি এমপাওয়ারম্যান্ট প্রকল্পে নিয়োগ পাই এবং ২০১৪ সালে ঐ প্রকল্প শেষ হলে মানুষের জন্য ফান্ডেশনে দীপ্ত প্রকল্পে ইয়োথ গ্রুপ এবং ফিমেল গ্রুপের সাথে কাজ করি।
নারী নেতৃত্বের ভূমিকায় তিনি আরও বলেন, আমার লীডারশীপে আমি নারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। পাশাপাশি মাদক নিরোধ, বাল্য বিবাহ বন্ধ, ইভটিজিং রোধসহ পাহাড়ি এলাকায় গ্রামের ছোটখাটো সালিশ মধ্যস্থতা ও পারিবারিক সমস্যা মীমাংসা করে থাকি।
তিনি নির্ভয়া পুরস্কার পেয়ে আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, এ অর্জন শুধু আমার নয়, এটা পাহাড়ের সমগ্র নারী জাতির অর্জন। এ পুরস্কার আমাকে আমার কাজর গতি এবং দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিলো।
এছাড়াও তিনি ২০১৯ সালে মহিলা অধিদপ্তরে "সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখে যে নারী" নামক আয়োজনে বেগম রোকেয়া পদকে ভুষিত হয়েছিলেন। চম্পা চাকমা এখন সিএইচটি নারী হেডম্যান কার্বারী নেটওয়ার্কের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে লংগদু উপজেলায় কাজ করছেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে নির্ভয়া পুরস্কার মূলত নারীদের সম্মানিত করা, শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা স্বীকৃতি দেয়া এবং একটি উন্নত সমাজ গঠনে তাদের অনস্বীকার্য অবদান উদযাপন করার লক্ষ্যে প্রদান করা হয়। এবার নির্ভয়ার ৫ম সংস্করণে ৫জন অসাধারণ নারীকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |