Logo
| বঙ্গাব্দ

গহীন অরণ্যে শীলাছড়া ঝরনার হাতছানি

  • আপডেট টাইম : 06-11-2025 ইং
  • 203177 বার পঠিত
গহীন অরণ্যে শীলাছড়া ঝরনার হাতছানি
রিপোর্টারঃ N/A

মো. জাকির হোসেন

গহীন অরণ্যে, প্রকৃতি ও পাহাড়ের বুকে গড়ে উঠেছে এক অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার শীলাছড়া ঝর্ণা। বিশাল শীলা পাথর বেয়ে নিচে নেমে আসছে ঝরনা জলের স্রোতধারা। চারপাশে সবুজে ঘেরা পাহাড়, পাখির ডাক আর ঠান্ডা জলের ছিটে-সব মিলিয়ে যেন প্রকৃতির কোলে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের ছোঁয়া।

শীলাছড়া ঝর্ণাটি খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে অবস্থিত। এটি উপজেলার একেবারে শেষ প্রান্তে হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার সীমানা ঘেঁষে অবস্থান রয়েছে। যেন দুই জেলার প্রাকৃতিক বন্ধনের প্রতীক।

স্থানীয়দের মতে, ‘শীলাছড়া’ নামের উৎপত্তি এখানকার প্রচুর পাথর বা ‘শীলা’ থেকে। এই শীলা বেয়ে গড়িয়ে পড়া জলধারাই আজকের এই মনোমুগ্ধকর শীলাছড়া ঝর্ণা দীঘিনালা-লংগদু সীমান্তে প্রকৃতির এক অনন্য উপহার।


দীঘিনালা সদর থেকে গাড়ি যোগে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ডাঙ্গা বাজার যেতে হয়। অন্যদিকে লংগদু থেকে ১৩ কিলোমিটার গিয়ে সেখান থেকে আরও প্রায় ৭ কিলোমিটার পূর্ব দিকে দুই ঘণ্টা পায়ে হেটে পৌঁছানো যায় ঝর্ণার মূল উৎসে। পুরো পথজুড়ে চোখে পড়ে পাহাড়িদের সহজ-সরল জীবনযাত্রা। পথে ছড়ার তীরে খেলছে ছোট্ট পাহাড়ি শিশুরা, তাদের হাসি-আনন্দে ভরে ওঠে চারপাশ। সেই দৃশ্য দেখে মন ভরে যায় প্রশান্তিতে, দীর্ঘ পথ চলার ক্লান্তিও যেন মিলিয়ে যায় নিমিষেই।

ঝিরিপথে হাঁটার সময় সবুজ প্রকৃতি, পাখির কিচির মিচির কলকাকলি, ছোট বড় পাথর, ঝিড়ির গা ঘেষে বড় বড় শীলা পাথরের আস্তরণ আর ঝরনার জলের মিষ্টি সুরে মন জুড়িয়ে যায়। ঝর্ণার পথে বিশাল বিশাল শীলা পাথর কেটে বয়ে চলেছে পানির ধারা। মনে হয়, পাহাড়ের বুক বেয়ে বইছে কোনো স্বর্গীয় সংগীতের সুর।

 ঝিরি থেকে প্রায় ৩০-৪০ মিটার শীলা পাথর বেয়ে ঝর্ণাটিতে যেতে হয়। অপরূপ এই শীলাছড়া ঝর্ণাটি ৫–৬টি ছোট-বড় ঝর্ণার সমন্বয়ে গঠিত। প্রায় ২০-২৫ মিটার উপর থেকে নামছে প্রতিটি ঝর্ণা। আলাদা উচ্চতা থেকে নেমে এসে মিলেছে নিচের ঝিরিতে। নিচের ঝিরির বৃত্তাকার রুপ আর চারপাশে পাথর আর ঘনসবুজ প্রকৃতি দেখে মনে হয় যেনো কোনো এক রাজা তার রাণীকে ভালবেসে তার জন্যে এটি খনন করে উপহারের নির্দশন রেখেছেন।


ঝর্ণাটিতে উঠার সময় ছোট বড় ঝর্ণার দেখা মিলে। খুবই সাবধানতার সাথে বিশাল বিশাল পিচ্ছিল পাথর বেয়ে উঠার সময় একটু অসাবধান হলেই ঘটতে পারে বড় দূর্ঘটনা। ঝর্ণাটিতে উঠেই দেখা যায় শীলা পাথরের পাহাড় থেকে অঝরে ঝড়ছে ঝর্ণার জলধরা। তবে ঝর্ণার শীতল জলে গা ভেজালে বা পাশে দাঁড়িয়ে গর্জন শুনলে সেই ভয় মিলিয়ে যায়, মনে জেগে ওঠে এক অজানা প্রশান্তির শিহরণ। আর সেই পানিতে সোনালি রোদ যখন ঝর্ণায় এসে পড়ে তখন দেখা যায় রংধনুর প্রতিচ্ছবি। মনে হয় যেনো কোনো এক শিল্পী গভীর অরণ্যের মাঝে তার আপন ভালবাসা দিয়ে শিলা পাথরের পাহাড় প্রকৃতি ও ঝর্ণার মিশ্রণে তৈরি করে রেখেছে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ চিত্রকর্মটি।

জেলা শহর থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রুহুল আমিন বলেন, শীলাছড়ার ঝর্ণাটি আমার দেখা সব থেকে সুন্দর ঝর্ণা। এতদূর থেকে এসে প্রায় ২ ঘন্টার দীর্ঘ ঝিরি ও পাথর বেয়ে ঝর্ণাগুলোর দর্শন পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে। পাথর আর পাহাড় পেড়িয়ে এটি ছিল রোমাঞ্চকর এক এডভেঞ্চার, যা স্মৃতির পাতায় সারাজীবন থেকে যাবে।

আরেক দর্শনার্থী স্বপন বিকাশ চাকমা জানান, শীলাছড়া ঝর্ণাটি প্রকৃতির অপরুপ সৃষ্টি। ঝর্ণাটি আমাদের স্থানীয় পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। যারা প্রকৃতির সৌন্দর্য অনুভব করতে চান, তাদের জন্য শীলাছড়া ঝর্ণা সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা।"

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ ইনামুল হাছান বলেন, দীঘিনালায় যতগুলো ঝর্ণা রয়েছে তার মধ্যে মনে হচ্ছে প্রকৃতির সৃষ্টির অন্যতম সুন্দর আর রোমাঞ্চকর ঝর্ণা শীলাছড়া ঝর্ণা। দীর্ঘ এডভেঞ্চার, ঝর্ণার জলে গা ভেজানো আর অপরুপ শীলা পাথরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া এ ঝর্নাটি হতে পারে দর্শনার্থীদের অন্যতম ভ্রমণের জায়গা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়