Logo
| বঙ্গাব্দ

সংকল্প, ভালোবাসা ও অধ্যবসায়ের মিশেলে গড়া একজন মহীয়সী মায়ের উদাহরণ -শ্রীলা তালুকদার

  • আপডেট টাইম : 26-11-2025 ইং
  • 212089 বার পঠিত
সংকল্প, ভালোবাসা ও অধ্যবসায়ের মিশেলে গড়া একজন মহীয়সী মায়ের উদাহরণ -শ্রীলা তালুকদার
রিপোর্টারঃ N/A

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: 

শ্রীলা তালুকদারের জীবন এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। রাঙামাটিতে জন্ম হলেও, বাবার চাকরির সূত্রে তার শৈশব কেটেছে রামগড়ে এক ছোট্ট শহরে, যেখানে জীবনের সহজ-সরলতা আর স্বপ্নের আলো একসাথে মিশে। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত রামগড়ে পড়াশোনা করার পর ১৯৭১ সালে পরিবার খাগড়াছড়িতে আসে। ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে তিনি শিক্ষা ও সংগ্রামের পথে প্রবেশ করেন। ১৯৭৬ সালে মেট্রিক, ১৯৭৮ সালে এইচএসসি এবং ১৯৮১ সালে ডিগ্রি অর্জনের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হয়ে ১৯৮৪ সালে মাস্টার্স শেষ করেন।

১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরিতে যোগদান করার মাধ্যমে শুরু হয় শ্রীলা তালুকদারের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

মাত্র দুই বছর চাকরিতে যুক্ত হওয়ার পর পরই ১৯৮৭ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নতুন সংসার, নতুন চাকরি, এবং একমাত্র প্রিয় সন্তান সবকিছুই একসাথে সামলানো ছিল চরম চ্যালেঞ্জ। স্বামীর জেলা শহর থেকে দূরবর্তী স্থানে চাকরির কারণে তিনি প্রায়শই একা, সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। তবু তিনি থেমে যাননি।

এরই মাঝে ১৯৯৮ সালে সরাসরি  প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ পাওয়ার পর বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করে। তারপর ২০০৬ সালে স্কুলের খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান ১৪ বছর সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন প্রশংসার সাথে।

২০২০ সালে অবসরে যাবার পরও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনেও ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ গার্লস গাইডস এসোসিয়েশন খাগড়াছড়ি জেলার জেলা গাইড কমিশনার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। আলো এনজিওর সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন সুনামের সহিত।

শ্রীলা তালুকদার ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং অদম্য সংকল্পের প্রতীক। প্রথম মেয়ের জন্মের পর সন্তান ও চাকরির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই তিনি দ্বিতীয় সন্তানকে পৃথিবীতে নিয়ে আসেন, এবং পরবর্তীতে জমজ দুই সন্তান—এক ছেলে ও এক মেয়ে ও তাঁর পরিবারে আনন্দের আলো নিয়ে আসে। তিনি ছিলেন একজন মায়ের আদর্শ নিজে শিক্ষক হওয়ায়, তিনি চেয়েছিলেন তার সন্তানরাও মানুষ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ হোক।

আজ তার সন্তানরা তার সাফল্যের জীবন্ত সাক্ষী। 

বড় মেয়ে ঈপসিতা চাকমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় সম্মান সহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর  ডিগ্রি শেষ করে বর্তমানে 

খাগড়াছড়ি পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে কর্মরত।

তার স্বামী ডাঃ রিপল বাপ্পী চাকমা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার।

দ্বিতীয় ছেলে অর্নব চাকমা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে ৩৯তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে সহকারি সার্জন হিসেবে কর্মরত। তার স্ত্রীও একজন ডাক্তার। 

জমজ দুই সন্তানমেয়ে লোকপ্রশাসনে এবং ছেলে সমাজবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে চাকরি প্রত্যাশী।

শ্রীলা তালুকদারের গল্প শুধু সাফল্যের নয়, আত্মত্যাগেরও। স্বামীর অনুপস্থিতিতে একা সংসার, সন্তান লালন, চাকরি পরিচালনা সবকিছু সামলানো, আবার সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এই অভাবনীয় দৃঢ়সংকল্প এক নারীকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তার সন্তানরা আজ প্রতিষ্ঠিত, গর্বিত এবং জানে, তাদের প্রতিটি অর্জনের পিছনে তার মাতৃত্বের অদম্য চেষ্টা, নিরলস শিক্ষা, উৎসাহ ও ভালোবাসা রয়েছে।

শ্রীলা তালুকদারের জীবন প্রমাণ করে যে, একজন নারী যদি সাহস, অধ্যবসায় ও ভালোবাসার সঙ্গে এগিয়ে যায়, সে অসাধ্যকেও সম্ভব করে তুলতে পারে। তার সন্তানরা তার গর্ব, তার পরিবার তার জীবনের উজ্জ্বল আলো, আর তার গল্প আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণার চিরন্তন উদাহরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়