Logo
| বঙ্গাব্দ

পাহাড়ের চূড়ায় উদ্যোক্তা সালাউদ্দিন'র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

  • আপডেট টাইম : 05-04-2026 ইং
  • 113041 বার পঠিত
পাহাড়ের চূড়ায় উদ্যোক্তা সালাউদ্দিন'র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
রিপোর্টারঃ N/A
জাকির হোসেন

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় শখ থেকে শুরু করে সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন এক উদ্যোক্তা। পাহাড়ের চূড়ায় বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষ করে তিনি উন্মোচন করেছেন নতুন সম্ভাবনার দ্বার।

উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ভূইয়াছড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন (৪০) নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী বিদেশী জাতের আঙ্গুর বাগান। ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে অনলাইনে ইউক্রেনের ‘বাইকুনুর’ জাতের মাত্র দুটি চারা ১৪০০ টাকা দিয়ে কিনে শুরু করা তার এই যাত্রা আজ বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে প্রায় ১৫ শতক জমিতে গড়ে উঠেছে সালাউদ্দিনের স্বপ্নের বাগান। খাগড়াছড়িতে বিদেশি জাতের মিষ্টি আঙ্গুর চাষে তিনিই অন্যতম পথিকৃৎ এবং দীঘিনালায় একমাত্র আঙ্গুর চাষি। তার বাগান দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন এবং অনেকেই চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

সালাউদ্দিনের তথ্যমতে, তার বাগানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৬০ ধরনের আঙ্গুরের জাত রয়েছে। ফেসবুক মেসেঞ্জার ও অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে রাশিয়া, ইউক্রেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের চারা সংগ্রহ করেছেন তিনি। উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাইকুনুর’, ‘ডি পিঙ্ক’, ‘বাইকিং’, ‘গ্লুরি’, ‘ডিক্সন’, ‘দাসোনিয়া’, ‘মেডরো ব্ল্যাক’, চীনের ‘চ্যাং ফিঙ্গার’ এবং মালয়েশিয়ার ‘গ্রীন লং’। এছাড়া ‘সিসিলি’, ‘রেড গ্লোব’, ‘আইসবার্গ’, ‘আর্লি রেড’, ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’, ‘এলব্রোস’ ও ‘রেড রোজ’সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জাতের আঙ্গুরও রয়েছে তার বাগানে।

তিনি আশা করছেন, চলতি বছরে তার বাগান থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি আঙ্গুর উৎপাদন হবে। শুধু ফল উৎপাদন নয়, গ্রাফটিং ও রুট পদ্ধতিতে উৎপাদিত আঙ্গুরের চারা অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে তিনি উল্লেখযোগ্য আয় করছেন। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মৌসুমে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার চারা বিক্রি করেন, যার প্রতিটির দাম ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

দীঘিনালার একমাত্র বিদেশী জাতের আঙ্গুর বাগানটি আকর্ষনীয় হওয়ায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মো. আব্দুল্লাহ খান বলেন,  বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো আঙ্গুর ফলের বাগান দেখলাম। বিদেশি জাতের আঙ্গুরগুলো খুবই মিষ্টি এবং উন্নত জাতের। পাহাড়ের চুড়ায় সালাউদ্দিন ভাইয়ের বাগানটি দেখতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। ইউক্রেনের বাইকুনুর জাতের দুটি চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছি।

বাগান তৈরিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে জৈব সার ব্যবহার করে সহজেই আঙ্গুর চাষ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আঙ্গুর চাষকে আরও বিস্তৃত করে দেশের সম্ভাবনাময় কৃষিখাতে পরিণত করার লক্ষ্য তার।

তবে পাহাড়ের চূড়ায় বাগান হওয়ায় মাঝে মধ্যে পানির সংকটে পড়তে হয় বলেও জানান তিনি। সরকারের কাছে থেকে সহযোগিতা পেলে তার এই আঙ্গুর ফলের বাগানকে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যাপক আকারে সম্প্রসারিত করার আশা প্রকাশ করেছেন মো. সালাউদ্দিন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, দীঘিনালায় সাহসিকতার সঙ্গে একমাত্র উদ্যোক্তা হিসেবে আঙ্গুর বাগান গড়ে তুলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সালাউদ্দিন। কৃষি অফিস থেকে তার বাগান নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, পাহাড়ের মাটিতে অধিক মূল্যবান ফল হিসেবে আঙ্গুর চাষ  সম্প্রসারণের জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে প্রান্তিক কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়