খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ
পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির শহর খাগড়াছড়ি এবার যেন রঙিন হয়ে উঠেছে জ্ঞানের আলোয়। শুরু হয়েছে ৪৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও মেলা, যার প্রতিপাদ্য “জ্ঞান-বিজ্ঞানে করবো জয়, সেরা হবো বিশ্বময়।”
বুধবার দুপুরে জেলা শহরের অফিসার্স ক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।
জ্ঞান চর্চার উৎসব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিই ছিল একটি প্রাণবন্ত জ্ঞান-উৎসব। উপস্থিত ছিলেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় প্রযুক্তিপ্রেমীরা।
স্টলজুড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বপ্নের প্রদর্শনী মেলায় অংশ নিয়েছে জেলার ৯ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের নিজেদের তৈরি স্মার্ট কৃষি যন্ত্র, সোলার, এনার্জির ঘরোয়া ব্যবহার, রোবটিক হাত ও অটো সেন্সর ডোর, স্বয়ংক্রিয় বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা, স্মার্ট পাহাড়ি স্বাস্থ্য সেবা মডেলসহ বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট প্রদর্শন করা হয়।।এসব মডেল শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই নয়, ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা সমাধানের চিন্তা-ভাবনার প্রমাণও দেয়। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের নির্দিষ্ট চাহিদা মাথায় রেখে তৈরি করা কিছু উদ্ভাবনে মুগ্ধ করেছে দর্শকদের।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, “আমাদের এলাকায় ইন্টারনেট বা বিদ্যুৎ সবসময় পাওয়া যায় না, তাই আমরা এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছি যা কম শক্তিতে চলবে।”
তারা আরও বলেন, “এই মেলায় এসে বুঝেছি, আমি চাইলে নিজের ছোট্ট চিন্তাকেই একটা বড় উদ্ভাবনে পরিণত করতে পারি।”
এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুমানা আক্তার বলেন, "তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে।
জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, “আমরা চাই, এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা শুধু চাকরি প্রত্যাশী না হয়ে উদ্ভাবক হোক। তারা যেন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের এবং সমাজের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, “বিজ্ঞান শিক্ষাকে জনপ্রিয় করতে হবে। মেয়ে শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহ দিতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী হয়ে উঠে।”
খাগড়াছড়ির এই বিজ্ঞান মেলা প্রমাণ করেছে উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে, সবচেয়ে দুর্গম জায়গা থেকেও নতুন দিগন্তের সূচনা সম্ভব বলে মনে করছেন আয়োজক কমিটির সংশ্লিষ্টরা।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |