Logo
| বঙ্গাব্দ

মাসিক স্বাস্থ্যবিধি একটি মানবাধিকার

  • আপডেট টাইম : 28-05-2025 ইং
  • 310631 বার পঠিত
মাসিক স্বাস্থ্যবিধি একটি মানবাধিকার
রিপোর্টারঃ N/A

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

“সীমানা ছাড়াই সময়কাল, মাসিকের স্বাস্থ্যবিধি একটি মানবাধিকার" এই স্লোগানকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে পালিত হয়েছে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি দিবস।

বুধবার (২৮ মে) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সংলগ্ন খাগড়াছড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এই কর্মসূচির আয়োজনে ছিল এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্প ও তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা (TDU)। অর্থায়নে ছিল নাগরিকতা সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (SEF) ও এসডিসসি (SDC), এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ-জিওএমবিএইচ (GFA Consulting Group GmbH) জার্মানী।

কিশোর-কিশোরী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেয় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিশোর-কিশোরী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা। আলোচনায় মাসিক বা ঋতুস্রাব নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা, সামাজিক বাধা ও গোপনীয়তার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা খোলামেলা মতামত তুলে ধরেন এবং প্রাকৃতিক এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আলোচনা সভায় তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মিনুচিং মারমার সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন “মাসিক বা পিরিয়ড নিয়ে কথা বলা এখনো অনেক পরিবারে নিষিদ্ধের মতো। অথচ এটি একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিষয়টিকে গোপন না রেখে, কিশোরীদের প্রাত্যহিক জীবনে স্বাস্থ্যকর পন্থা অবলম্বনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।”

বক্তারা আরও বলেন, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক সচেতনতা শুধু নারীর নয়, পুরুষদেরও জানতে হবে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে পাঠ্যক্রমে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মাসিককালীন স্যানিটারি ন্যাপকিন, বিশুদ্ধ পানি, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার প্রয়োজনীয় উপকরণ যেন প্রতিটি বিদ্যালয়ে সহজলভ্য হয়, সেদিকে গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি বলেন, “আমরা চাই, খাগড়াছড়ির প্রতিটি স্কুলের কিশোরীরা যেন নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হয়, নিজের শরীর ও অধিকারকে সম্মান করতে শেখে।”

আলোচনা সভার পরপরেই সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও উপকরণ বিতরণ আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক বার্তা সম্মলিত টি-শার্ট এবং শতাধিক কিশোরীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়। এছাড়া মাসিককালীন ব্যথা, খাদ্যাভ্যাস, হাইজিন পদ্ধতি, প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদি নিয়ে সরল ভাষায় উপস্থাপন করা হয়।

এছাড়াও এ ধরনের কার্যক্রম শুধু দিবসেই সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিতভাবে স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু রাখা আশ্বাস দেন। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সচেতনতা পৌঁছে দিতে চাইছে এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্প ও সহযোগী সংস্থাগুলো।

এই কর্মসূচি আরও একবার প্রমাণ করেছে যে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা শুধু প্রয়োজনীয় নয়—বরং এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। সমাজে নারীর মর্যাদা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে, এ বিষয়গুলো নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে সামনে আসা এখন সময়ের দাবি।

এ সময় খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ত্রিনা চাকমা, খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার উনুচিং মারমা, খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি মনীষা তালুকদার, খাগড়াছড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংপ্রু মারমা, স্থানীয় কার্বারীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়