Logo
| বঙ্গাব্দ

পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাঁকো পারাপার

  • আপডেট টাইম : 19-10-2025 ইং
  • 236782 বার পঠিত
পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাঁকো পারাপার
রিপোর্টারঃ N/A

জাকির হোসেন

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের তৈরি সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের বড় কাকড়াখিয়া পাড়াটি রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার সীমানা ঘেষা এবং দীঘিনালা উপজেলার শেষ সীমানায় অবস্থিত। পাড়ার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়েই। বর্ষা মৌসুমে বা সামান্য বৃষ্টি হলেই সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে সবসময়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাড়াটিতে প্রায় ৩শতাধিক পরিবারের বসবাস। তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য প্রায় ৫ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। পথে দুটি ছোট-বড় বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। তাছাড়া, রাস্তা কাঁচা হওয়ায় বৃষ্টি হলে কাঁদা ও জল জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইমন চাকমার মা চন্দ্রা চাকমা বলেন, “স্কুলে যাওয়ার পথে দুটি সাঁকো রয়েছে, কিন্তু সেখানে কোনো সেতু বা কালভার্ট নেই। রাস্তা কাঁচা হওয়ায় বৃষ্টিতে কাঁদা লাগে। বাচ্চাদের চলাচল কঠিন হয়ে যায়। প্রতিদিন চিন্তায় থাকি, যদি পড়ে যায়!”


স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য স্বপন বিকাশ চাকমা বলেন, "সেতু না থাকায় স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের খুবই কষ্ট করে সাঁকো পারাপার হতে হয়। শিক্ষার্থীরা পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাও থাকে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। সেতু তৈরি করে দিলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় এগিয়ে যাবে এবং এলাকার কাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হবে।"

উত্তর রেংকার্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উষা আলো চাকমা জানান, “খালের ওপর গাছ ও বাঁশ ফেলে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। এর ওপর দিয়ে শিক্ষার্থীদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক সময় কেউ পড়ে যায়, বই-খাতা নষ্ট হয়।"

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ ইনামুল হাছান  জানান, “ জায়গাটি আমরা ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছি এবং মানুষের দুর্দশার কথা শুনেছি। শিক্ষার্থী ও এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে"

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি, যত দ্রুত সম্ভব খালের ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক এবং রাস্তা পাকা করা হোক। যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়