Logo
| বঙ্গাব্দ

মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা

  • আপডেট টাইম : 07-05-2026 ইং
  • 10081 বার পঠিত
মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা
রিপোর্টারঃ N/A
শফিক ইসলাম, মহালছড়ি

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ি রিজিয়নের দিকনির্দেশনায়  এবং মহালছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার (৭ মে) মহালছড়ি শিশুমঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলা এ ক্যাম্পে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিয়ে সহস্রাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

এ সময় মহালছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করেন। তিনি চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং আয়োজনে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

লায়ন্স ক্লাবের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ও রোটারি ক্লাবের সার্বিক সহযোগিতায় পরিচালিত এই ব্যতিক্রমধর্মী ক্যাম্পে চক্ষু পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা বিতরণসহ সার্জারির জন্য রোগী বাছাই করা হয়। একইসাথে সাধারণ রোগীদের জন্যও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়।

ক্যাম্পে মোট ৫৬৮ জন চক্ষু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ২৯৬ জন পাহাড়ি এবং ২৭২ জন বাঙালি। এছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন মোট ৪৫৭ জন, যার মধ্যে ২৫৫ জন পাহাড়ি ও ২০২ জন বাঙালি।অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ৫০৪ জন নারী, ৪২৬ জন পুরুষ এবং ৯৫ জন শিশু।

চক্ষু রোগীদের মধ্যে ১০০ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। আরও ১২৭ জন রোগীকে পরবর্তীতে চশমা ও ওষুধ সরবরাহের জন্য নিবন্ধন করা হয়েছে। এছাড়া ছানি অপসারণসহ বিভিন্ন জটিল চোখের অপারেশনের জন্য ১৭৪ জন রোগীকে নির্বাচন করে মহালছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রোগীদের নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিত করারও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে যাতায়াতের কষ্ট বিবেচনায় মহালছড়ি জোন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মহালছড়ি ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৪৩৮ জন রোগীর যাতায়াতের ব্যবস্থা করে। বিভিন্ন রুটে একাধিক যানবাহনের মাধ্যমে রোগীদের আনা-নেওয়া করা হয়। এতে দরিদ্র ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

চিকিৎসা ক্যাম্পে মহালছড়ি জোনের মেডিকেল অফিসারের পাশাপাশি মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও সেবা প্রদান করেন। ফলে নারী ও শিশুদের জন্যও বিশেষ চিকিৎসা নিশ্চিত হয়।

মহালছড়ি জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন বোরহান উদ্দিন বায়েজীদ বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকার মানুষ যাতে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই বিশেষ মেডিকেল ও চক্ষু ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, অপারেশন ও ফলোআপ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগী ও স্থানীয়দের মতে, মহালছড়ি জোনের এই উদ্যোগ শুধু একটি চিকিৎসা ক্যাম্প নয়, বরং দুর্গম পাহাড়ি মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে এসেছে। পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ক্যাম্প সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়