লোকমান হাকিম, রুমা
বান্দরবান রুমায় সাংবাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ ওঠেছে পাইন্দু ইউপি সচিব রাজীব দাশের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও নিন্দের ঝড়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪- ২০২৫ অর্থবছরে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের জন্য কাবিটা, কাবিখার আওতায় নগদ টাকা ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয় সরকার।
জানা যায়, ইউপি সদস্যদের নিয়ে পাইন্দু চেয়ারম্যান ও সচিবের পরামর্শক্রমে একটি বৈঠক বসেন। বৈঠকে সাংবাদিকদের সম্মানী দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতি মেম্বার থেকে সাত হাজার ৫শ টাকা করে চাঁদা উত্তোলনের সিন্ধান্ত হয়।
গত (৩১ মার্চ) সন্ধায় সদর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে এক আলাপচারিতায় খোলামেলায় পাইন্দু ইউপির দুই সদস্যের বক্তব্যে এসব তথ্য ওঠে আসে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে, পাইন্দু এক ইউপি সদস্য জানান, বৈঠকের পর উত্তোলিত সম্পূর্ণ টাকা নিজের কাছে জমা থাকায় চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন ইউপি সচিব।
সূত্রের ভাষ্যমতে, একটি ইউনিয়নে ১২ জন মেম্বার। পুরুষ মেম্বার নয় জন আর মহিলা মেম্বার তিনজন। প্রতি মেম্বারের কাছে সাত হাজার ৫শ টাকায় ১২ জনের কাছে হয় ৯০ হাজার টাকা।
অভিযুক্ত পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রাজীব দাস মুঠোফোনে মেম্বার প্রতি সাত হাজার ৫শ টাকা করে চাঁদা উত্তোলনের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, এর মধ্যে এক সাংবাদিকের হাতে চার জনের জন্য ৮০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট টাকার কোথায় জানতে চাইলে কলটি কেটে দেয় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রাজীব দাস। পরে বারবার ফোন দিলেও কল রিসিভ করেননি। পরে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বরাদ্দ বন্টন নীতির আলোকে মোট প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে একটি অংশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। যা আগে উপজেলা পরিষদের হাতে রাখা হতো।
উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে উপ-বরাদ্ধ প্রাপ্তির পর সভায় সকল ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে প্রকল্পগুলো গৃহীত হবার কথা থাকলেও ইউনিয়নের বরাদ্দগুলো চেয়ারম্যান ও সচিবের যথেচ্ছভাবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। কাগজে কলমে কার্য বিবরণী ঠিক থাকলেও কোন কোন জায়গায় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, তা অধিকাংশ মেম্বার জানেন না। এমন অভিযোগ মেম্বারদের। কোন মেম্বার কি প্রকল্প পেয়েছে, তা জানানো হয় না। কার্য বিবরণীও দেখানো না মেম্বারদের। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি প্রস্তুত করে সভাপতি স্বাক্ষর নিতে যায়। তখনই মেম্বারা জানতে পারে এই প্রকল্প তার নামে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পাইন্দু ইউনিয়ন চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মা পাড়ায় অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, দেখা হলে বিস্তারিত কথা হবে।
সাংবাদিকদের নাম ভাঙ্গিয়ে সচিব কর্তৃক মেম্বারদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিষয়টি অবগত নয় উল্লেখ করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাওসার আলী বলেন, গৃহীত প্রকল্পের বিপরীতে প্রথম কিস্তির বিল দেয়া হয়েছে। শতভাগ কাজ আদায় করার পর চূড়ান্ত বিল ছাড়া হবে। এ কাজে স্থানীয়দের সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |