বান্দরবান প্রতিনিধিঃ বান্দরবানের দুই কথিত সাংবাদিক ডেভিড সাহ্ ও আসমত হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রুমার স্থানীয় সাংবাদিক মহল, ব্যবসায়ী সমাজ ও সচেতন জনগণের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া।
সম্প্রতি রুমা উপজেলায় রুমা বাজারে বাজার ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রুমা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন পেশার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নেতৃত্বের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তবে এ বৈঠকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা গোপনীয়তা ছিল না বলেই জানিয়েছেন উপস্থিত সবাই। বৈঠকে রুমা থানার ওসিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
এ বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করে আসমত হোসেন লেখেন, “রুমা উপজেলায় বিএনপি-জামাত-আওয়ামী লীগের ভাগ বাটোয়ারির গোপন বৈঠক।” যদিও ভিডিওতে স্পষ্টভাবে জনসমাগমপূর্ণ একটি উন্মুক্ত স্থানে বৈঠকটি হয় এবং কোনো ধরনের গোপন কার্যক্রম বা অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায় নি।
রুমা বাজারের বাজার সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন,“আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ী হিসেবে যেকোনো বিষয়ে আলোচনা করতে পারি। সেটিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো নিন্দনীয় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দস্তগীর বলেন,
“ওই বৈঠকে কলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শমশু আলমকে ডাকা হয়েছিল বাজারে কলার বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে আলোচনার জন্য। এটি ছিল একেবারেই বাজার শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক। অথচ একে রাজনৈতিক ভাগ বাটোয়ারা বলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর।”
আসমত হোসেনকে ফোনে গোপন বৈঠকের সংজ্ঞা এবং ভিডিওর প্রকৃত অর্থ জানতে চাইলে তিনি বলেন,“ভাগ বাটোয়ারার বিষয়টি পরে বুঝা যাবে।”প্রশ্ন করা হয়, “একটি উন্মুক্ত জনসমাগমে অনুষ্ঠিত বৈঠককে কীভাবে গোপন বলা যায়?” — উত্তরে তিনি বলেন,“আওয়ামী লীগের সাথে ইদ্রিস মিয়া কেন বসেছেন?”জবাবে জানানো হয়, ব্যবসায়ী হিসেবে বৈঠকে বসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এরপর তিনি কল কেটে দেন।
একপর্যায়ে ডেভিড সাহা বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী ইদ্রিস মিয়াকে ফোন করে প্রশ্ন করেন, আপনি কি রুমা সদর ইউনিয়নের ইজারা নিয়েছেন? জবাবে হ্যাঁ বলা হলে তিনি জিজ্ঞেস করেন কার নামে নিয়েছেন কে কে আছে? কতো দিয়ে নিয়েছেন? জবাবে ইদ্রিস মিয়া বলেন ইজারা বৈধ ভাবে ওপেন প্লেসে নিয়েছি আপনার যদি জানতে ইচ্ছে করলে রুমা এসে জেনে নিন। এক পর্যায়ে ডেভিড সাহা বলেন রুমায় কে কোন তরকারি দিয়ে ভাত খায় তা আমার জানা আছে এমনটা বলে কল কেটে দেন ডেভিড সাহা।
এরপর ডেভিড সাহা তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি অনলাইন নিউজ শেয়ার করেন। সংবাদটির শিরোনাম ছিল –
“রুমা উপজেলায় আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া।”
তবে প্রতিবেদকের নাম উল্লিখিত না থাকলেও “ব্যুরো প্রধান, পার্বত্য চট্টগ্রাম” হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। যেহেতু প্রতিবেদনে ইদ্রিস মিয়ার ফোনালাপ উল্লেখ রয়েছে, ধারণা করা হয় ডেভিড সাহাই এই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।
সংবাদটিতে আরও দাবি করা হয়, সম্প্রতি মুসলিম ঐক্য পরিষদ নামে একটি সংগঠনে পদ না পাওয়ায় ইদ্রিস মিয়া সংগঠনটি বানচাল করে দিয়েছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, মুসলিম ঐক্য পরিষদের নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে পূণর্বাসনের চেষ্টা অভিযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে । এবং কয়েকটি অনলাইন প্রোটাল থেকেও তার নিউজ হয়েছে। যা সত্যতা প্রমাণের পর দীর্ঘদিন মুসলিম ঐক্য পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে সকলের অংশগ্রহণে মুসলিম ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে নতুন করে কমিটি গঠনে পদপদবিতে স্থানীয় ব্যক্তিদের দ্বিমত থাকায় পুরোপুরি মুসলিম ঐক্য পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ইদ্রিস মিয়া জোরপূর্বক দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ইজারা আদায় করছেন। কিন্তু কলা ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য কামাল উদ্দিন জানান,“ইজারা নির্দিষ্ট নিয়ম ও হারে আদায় করা হচ্ছে। ইদ্রিস মিয়া কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি করছেন না।”
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা থোয়াইচিঅং মার্মা বলেন,“ইদ্রিস মিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা একধরনের অজ্ঞতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আপসহীনভাবে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।”
বিএনপি নেতা ভানরুপুই বম বলেন, ইদ্রিস মিয়া শুধু আমাদের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা নন, তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নিঃস্বার্থ ত্যাগে ভরা। আওয়ামী লীগের সাথে তাঁর নাম জড়ানোর অপচেষ্টা এক গর্হিত ষড়যন্ত্র। বিএনপির নেতাকর্মীরা জানে কে কখন রাজপথে ছিল, কে কখন লুকিয়ে ছিল। এই অপপ্রচারে যারা জড়িত, তারা প্রকৃতপক্ষে বিএনপির শত্রু এবং ষড়যন্ত্রকারী। আমরা ইদ্রিস মিয়ার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন জানাই এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।”
বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া বলেন, আমি রাজনীতি করি দলের ও দেশের স্বার্থে। ব্যক্তি স্বার্থে নয়। এ অপপ্রচারটি চালানো হয়েছে কারণ আমি অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছি।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সংবাদমাধ্যমের অপব্যবহার করে যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |