Logo
| বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞার পর আংশিক উন্মুক্ত রুমা

  • আপডেট টাইম : 25-09-2025 ইং
  • 359472 বার পঠিত
নিষেধাজ্ঞার পর আংশিক উন্মুক্ত রুমা
রিপোর্টারঃ N/A

লোকমান হাকিম, রুমা

বান্দরবানের রুমা উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কেওক্রাডং পাহাড় ও জাদিপাই ঝর্ণা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি তুলেছেন স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িতরা।

বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেওক্রাডং এবং দৃষ্টিনন্দন জাদিপাই ঝর্ণা দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। শীত মৌসুমে হাজারো ভ্রমণপিপাসু এই এলাকায় ভিড় জমান। এতে হোটেল-রেস্তোরাঁ, জিপ গাড়ি চালক, নৌযান মালিক, গাইডসহ স্থানীয় কুটির শিল্পের কারিগর ও ব্যবসায়ীরা জীবিকা নির্বাহ করেন।

তবে গত কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বগালেকসহ কেওক্রাডং ও জাদিপাই ঝর্ণায় পর্যটক যাতায়াত সীমিত রাখা হয়েছিল। এতে রুমার পর্যটন খাত একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ে এবং শত শত পরিবার অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়।

সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে বগালেক খুলে দেওয়ায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তারা আশা করছেন আসন্ন শীতে কেওক্রাডং ও জাদিপাই ঝর্ণাও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

বর্তমানে রুমায় নিবন্ধিত গাইডের সংখ্যা ৬২ জনের বেশি। এছাড়া শতাধিক জিপ গাড়ি চালক ও হেলপার, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী এবং পাহাড়ি নারীদের কুটির শিল্প সরাসরি পর্যটন নির্ভর। দীর্ঘদিন পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ খাতের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

স্থানীয় গাইড মো. আলমগীর জানান, “শীত মৌসুমে যদি পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকে, তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকার পরিস্থিতিতে পড়ি। বগালেক খোলার পর এবার আশা করছি কেওক্রাডং ও জাদিপাই ঝর্ণাও খোলা হবে।”

বগালেক এলাকার নারী উদ্যোক্তা সিয়াম বম বলেন, “পর্যটক না এলে আমাদের হস্তশিল্প বিক্রি হয় না। গত কয়েক বছর ধরে আমরা বড় ধাক্কা খেয়েছি।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, শীত মৌসুমে কেওক্রাডং ও জাদিপাই ঝর্ণা উন্মুক্ত রেখে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথাযথ টহল ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি ও কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটনে সরকারি সহায়তা জরুরি।

তাদের মতে, পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হলে শুধু পর্যটকরাই উপকৃত হবেন না, বরং শত শত পরিবার জীবিকার সুযোগ পাবে, স্থানীয় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পার্বত্য পোস্ট | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায়