পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগে উপজেলার ইন্দ্রসিং পাড়া এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্পেইন, শীতবস্ত্র ও শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী।
লক্ষীছড়ি জোন সূত্রে জানা যায়, শীতকালীন দুর্ভোগ লাঘব, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তার উদ্দেশ্যে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম (HDP) বাস্তবায়ন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইন্দ্রসিংপাড়া এলাকার শীতার্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী ও পুরুষদের মাঝে মোট ২০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়, যা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র মানুষের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
একই দিনে স্থানীয় জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে লক্ষীছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় একটি বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। এতে মোট ৩৩৫ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৪৫ হাজার ৫৬৭ টাকা মূল্যের প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের চিকিৎসা সংকট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সেনাবাহিনী। কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় ১২৪ জন স্কুলগামী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়মুখী করা এবং পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শীতবস্ত্র, চিকিৎসা ও শিক্ষাসামগ্রী পেয়ে স্থানীয় জনগণ সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর এই ধরনের মানবিক সহায়তা তাদের জীবনযাত্রায় বাস্তব পরিবর্তন আনছে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করছে।
লক্ষীছড়ি জোনের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উন্নয়ন সাধনই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম অগ্রাধিকার। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়মিত মানবিক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন লক্ষীছড়ি জোনের মেজর মীর মোহাম্মদ ফাহ্দ বিন আসাদ, ক্যাপ্টেন আসিফ মোস্তফা জীম, মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন মোঃ সাব্বির হোসেন।
এ জাতীয় আরো খবর..