বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মোস্তফা কলোনি এলাকায় সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সুবিধাভোগীদের জন্য নির্মিত সরকারি ঘর অবৈধভাবে প্রায় ২ লাখ টাকার বিনিময়ে ২ টি ঘর ৪ লাখ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। একই সঙ্গে নকশা পরিবর্তন করে অতিরিক্ত জমি দখলের ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূমিহীন ও অসহায় পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত এসব ঘর কিছু অসাধু ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত সুবিধাভোগীরা এবং সরকারের উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই মূল নকশা উপেক্ষা করে ঘরের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে বিভিন্নভাবে কাস্টমাইজ করছেন। কেউ কেউ আশপাশের খালি জায়গা দখল করে নিজেদের দখলে নিচ্ছেন। এমনকি আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘরের পানির সরবরাহের জন্য স্থাপিত প্ল্যান্ট ভেঙে সেখানে নতুন ঘর নির্মাণের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি একটি মুক্তিযোদ্ধার জন্য বরাদ্দকৃত ঘরও বিক্রি হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
ফলে কলোনির সার্বিক পরিকল্পনা নষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অবকাঠামোগত ও সামাজিক নানা জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আমরা এখানে আছি শুরু থেকে, হঠাৎ কিছুদিন আগে ঘর বেচাকেনার বিষয়টি জানতে পারি।
একই সাথে অভিযোগ করে বলেন, এখানে সরকার আমাদের সকলের জন্য একটি পানির প্ল্যান্ট করে দিয়েছে, সেটা ভেঙেও একটি পরিবার ঘর নির্মাণ করেছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক ঘর ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিক্রেতার স্বামী অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসার জন্য টাকা প্রয়োজন। তারই ভিত্তিতে ঘরটি বিক্রি করলে তিনি ক্রয় করেন।
তিনি আরও বলেন, আমি জোর করে ঘর ক্রয় করেনি, তিনি সৈচ্ছায় বিক্রি করেছে দেখে আমারও ঘরের প্রয়োজন বিধায় ঘরটি কিনেছি।
এবিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান মুঠো ফোনে জানান, অভিযোগের বিষয়ে এরইমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে এমন অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ জাতীয় আরো খবর..