বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা খাগড়াছড়ি। এখানে পাহাড়, নদী, ঝরনা আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মিলনে গড়ে ওঠা এই জনপদ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের কারণেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
এই অঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন খাগড়াছড়ির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া। তিনি ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চ পর্যন্ত তার যাত্রা এক ধারাবাহিক সংগ্রাম, সংগঠন গঠন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং জনসেবার গল্প রয়েছে।
শৈশব, ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক উত্থান, সংসদ সদস্য হিসেবে ভূমিকা, পার্বত্য উন্নয়নে অবদান এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দর্শন ছিলো চমৎকার।
ওয়াদুদ ভূইয়ার জন্ম খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায়। পার্বত্য অঞ্চলের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার ফলে ছোটবেলা থেকেই তিনি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানের শিক্ষা লাভ করেন। পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মেলবন্ধনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক চিন্তাকে পরবর্তীতে প্রভাবিত করে।
তার পরিবার শিক্ষাবান্ধব ও সামাজিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিল। ছোটবেলা থেকেই তিনি নেতৃত্বগুণ, সংগঠক মনোভাব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনার পরিচয় দিয়েছেন। বিদ্যালয় জীবনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ তার ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রেখেছেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নকালে তিনি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, সামাজিক বৈষম্য ও রাষ্ট্রচিন্তা সম্পর্কে একটি গভীর ধারণা লাভ করেন।
এই সময়ে তিনি যুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ ছাত্র দলে-এর সঙ্গে। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তিনি সংগঠন পরিচালনা, কর্মী সমন্বয়, আন্দোলন পরিচালনা এবং বক্তৃতা প্রদানের দক্ষতাও অর্জন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনি পরিচিত ছিলেন পরিশ্রমী ও সংগঠক হিসেবে। ছাত্রদের দাবি আদায়, একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি। এসব ক্ষেত্রেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ছাত্রজীবনের এই অভিজ্ঞতাই তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভিত্তি গড়ে তোলে প্রখর ভাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে তিনি সরাসরি খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ধীরে ধীরে তিনি জেলা পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন শক্তিশালী সংগঠক হিসেবে পরিচিত লাভ করে রাজনীতির মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন।তার রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম দিক ছিল দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জেলার একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন সারাদেশে।
ওয়াদুদ ভূইয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হন। তিনি খাগড়াছড়ি আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সংসদে তার বক্তব্যে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বিশেষভাবে জোর দেন, পাহাড়ি সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাতার সংসদীয় কার্যক্রমে খাগড়াছড়ির স্বার্থকে জাতীয় আলোচনায় তুলে ধরাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।
ওয়াদুদ ভূইয়া দায়িত্ব পালন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে। তিনি Chittagong Hill Tracts Development Board এর চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।
এই পদে থেকে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেন। তার সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যেমন সড়ক ও সেতু নির্মাণ, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা, তিনি বিশ্বাস করতেন, উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনমান উন্নত করা এবং সমতা নিশ্চিত করা।
খাগড়াছড়ি একটি বহু-জাতিগোষ্ঠীর জেলা। এখানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রোসহ বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে।ওয়াদুদ ভূইয়া তার রাজনৈতিক বক্তব্যে বারবার সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, "পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়নের জন্য সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এই অবস্থান তাকে একজন সমন্বয়ক ও মধ্যপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত দিয়েছে।
তার নেতৃত্বের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য১। তৃণমূলমুখী রাজনীতি।
২। সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা
।৩। তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা
।৪। বক্তব্যে দৃঢ়তা ও যুক্তি উপস্থাপন।
ছাত্রজীবন থেকে অর্জিত সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিপক্বতা দিয়েছে।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড বা সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।শিক্ষার্থীদের সহায়তা, মসজিদ-মন্দির সংস্কার, সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এতে তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নয়, বরং সামাজিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হন।
ওয়াদুদ ভূইয়া তরুণদের রাজনীতিতে ইতিবাচক অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তার মতে, সুশিক্ষিত ও সচেতন তরুণ প্রজন্মই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও তিনি কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন সময়ে সেটি প্রকাশিত হয়েছে।
তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল বিষয়গুলো হলো, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, উন্নয়নমুখী রাজনীতি,সম্প্রীতি ও শান্তি, তিনি মনে করেন, রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়; মানুষের সেবার জন্য হওয়া উচিত।
পরিশেষে আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, রাজনৈতিক জীবন এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত তার যাত্রা প্রমাণ করে।সংগঠন, অধ্যবসায় ও জনগণের সঙ্গে সংযোগ থাকলে একজন নেতা জনমানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন।
খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে তিনি তার রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত রেখেছেন। তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও খাগড়াছড়ির উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশাই স্থানীয় জনগণের।
পাহাড়ের উন্নয়ন এবং সম্প্রীতি ধরে রাখতে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে বাংলাদেশ মন্ত্রীত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রীত্ব দেওয়া উচিত। ভৌগোলিক দিক দিয়ে খাগড়াছড়ি জেলাসহ রাঙামাটি দুটি উপজেলা খাগড়াছড়ির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন সহায়ক হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..